মামদানি কী শিখালেন? – মারজান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী
প্রকাশিত হয়েছে : ৫ নভেম্বর ২০২৫, ৮:২০ অপরাহ্ণ

মারজান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী::
আমি বাংলাদেশী, বাস করি জার্মানিতে। নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে আমার কোনো স্টেইক নেই। তবুও আটলান্টিকের এই পারে বসে চেয়েছি, ওই পারে জোহরান মামদানি মেয়র নির্বাচনে জিতে যাক।
‘১৮ ও ‘২৩ সালে চেয়েছিলাম, যেন এরদোয়ান জিতে যান। এজন্য নয় যে, এরদোয়ানকে আমি ‘মহান’ মনে করি। তিনি আর দশজন নেতার মতো এক নেতা। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে তিনি লড়েছেন, তারা কামাল আতাতুর্কের আদর্শধারী। এই ভাবনাটি এরদোয়ানের জন্য আমাদের সমর্থনের কারণ।
এবার আসি মামদানিতে। মামদানি একজন মুসলিম, কারণ তিনি নিজেকে ‘মুসলিম’ হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন। আমি জানি না, তিনি ‘নেক মুসলিম’ নাকি ‘পাপিষ্ঠ মুসলিম’। তবুও নিউইয়র্কের ইসলামোফোবিক মহলে নিজের পরিচয়কে না লুকিয়ে, প্রকাশ্যে বলে ফেলা নিঃসন্দেহে সাহসের বিষয়। মামদানি heজ্রাeলের বর্বরতার তীব্র বিরোধী। আমার জন্য এটি এতো বড় বিষয় যে, এই ইস্যু নিয়ে একটি ‘উটের বাচ্চা’ দাঁড়ালে আমি সেটিকেও সমর্থন করতাম। যদিও মামদানির বিজয়ে গাযযার বিষয়ে কিছু যায়-আসে না, তবুও। গাযযা হাসলে আমি হাসি, ওরা কাঁদলে আমি কাঁদি… সিম্পল।
মামদানি ডেমোক্র্যাট, আর ডেমোক্র্যাটরা ‘লজবট’ সমর্থক, আমি জানি। বলতে পারেন, মামদানি একজন সোশ্যালিস্ট, তার হাতে ট্যাটু, তার মা হিন্দু; বউ বেপর্দা। এগুলোও জানি। তবু আমি মামদানির জয়ের প্রত্যাশী ছিলাম। কারণ এন্ড্রো কোমোর বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য আমাদের হাতে সালাহুদ্দীন আইয়ুবী নেই; আছে জোহরান মামদানি।
লড়াইটা মামদানি বনাম কোনো নেককার ওলীআল্লাহ ছিল না। মামদানিকে লড়াই করতে হয়েছে তীব্র ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে, হোয়াইট সুপ্রেমেসির সাথে, এহু*দি লবির বেশুমার পয়সার সামনে। তাকে লড়তে হয়েছে ট্রাম্পের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে, নিউইয়র্কের হেঁন্দুত্ববাদীদের ঘৃণার সামনে; লড়তে হয়েছে তার হেzraয়েল-বিরোধীতার ভার কাঁধে নিয়ে। সমস্ত লড়াই তিনি লড়েছেন দক্ষিণ-এশিয়ান বংশদ্ভূত, উগান্ডায় জন্ম নেওয়া এক প্রফেসর পিতার ‘মুসলিম’ সন্তান হিসেবে। মামদানি দেখিয়েছেন, কীভাবে জনগণের অব্যক্ত কথাকে নিজের বাগ্মিতার দ্বারা ‘ভাষা’ দেওয়া যায়, নিজেকে সবার মধ্যে একজন বানানো যায়, নিজের পরিচয়কে না লুকিয়ে কীভাবে গর্বিত হওয়া যায়, কীভাবে সততার সাথে বেশুমার পয়সা, তীব্র ঘৃণা এবং অবিরাম মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জেতা যায়। মামদানির বিজয়ে আমি যতটা না খুশি; এরচেয়ে বেশি খুশি তাদের পরাজয়ে, যাদেরকে মামদানি পরাজিত করে এসেছেন।
অভিনন্দন জোহরান মামদানি।
লেখকঃ ইসলামি চিন্তাবিদ, অধ্যয়ণরত- (মাস্টার্স) রিলিজিয়াস স্টাডিজের অধীনস্থ ইসলামিক স্টাডিজ, এয়ারফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জার্মানী।





