ব্যাংকের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন না পাওয়ার অভিযোগ, ৯০০ কোটি টাকার ঋণে ‘ডুবতে বসেছে’ দুই প্রতিষ্ঠান
প্রকাশিত হয়েছে : 4 October 2026, 6:04 pm

ছবি: পূর্বদিক
খুলনা প্রতিনিধি: ব্যাংকের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন না পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক এলসি জালিয়াতির কারণে ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে পড়েছে খুলনার রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান ‘সুপারেক্স লেদার’ ও ‘সুপার জুট মিলস লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফিরোজ আহম্মেদের দাবি, ব্যাংক সময়মতো অর্থায়ন করলে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রেখে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হতো। বর্তমানে মূল ঋণ ও সুদসহ তাঁর প্রতিষ্ঠানের মোট দায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা।
শনিবার ‘সুপারেক্স লেদার’-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন এম ফিরোজ আহম্মেদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০০৬ সালে খুলনার ফুলতলার আলকা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের সহায়তায় ‘সুপার জুট মিলস’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি পাটকল হিসেবে অবস্থান তৈরি করে। একপর্যায়ে ২৪টি দেশে পণ্য রপ্তানি শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ২০১৪ সালে ব্যাংকের তৎকালীন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে চামড়া শিল্পে বিনিয়োগ করেন তিনি। ফুলতলার উত্তরডিহিতে প্রায় চার লাখ বর্গফুট আয়তনের ‘সুপারেক্স লেদার’ কারখানা স্থাপন করা হয়। তাঁর দাবি, কারখানাটি পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি এলডব্লিউজি (LWG) সনদও অর্জন করে এবং এশিয়ার অন্যতম সেরা চামড়া কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
তবে ২০১৭ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায় মন্দা শুরু হয় বলে জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতার পরিবর্তন এবং এস আলম গ্রুপের প্রভাবের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রতিশ্রুত নতুন অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। দুটি প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা চলতি মূলধনের প্রয়োজন হলেও ব্যাংক তা সরবরাহ করেনি। এতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের ধস নামে।
ফিরোজ আহম্মেদের দাবি, বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের মূল ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা সুদ যুক্ত হয়ে মোট দায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া ইতালি থেকে পণ্য আমদানির বিপরীতে জাল এলসি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় ব্যাংক যথাযথভাবে যাচাই না করায় প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠান দুটিতে প্রায় এক হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। একসময় এ সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ হাজার। প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন সরবরাহ করা হলে প্রতিষ্ঠান দুটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, “ব্যবসায়িক মন্দার কারণে আমি খেলাপি হইনি। ব্যাংক প্রতিশ্রুত অর্থায়ন না দেওয়ায় আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।”
সংকট উত্তরণে সুদের বড় একটি অংশ মওকুফ করে ঋণ পুনর্গঠন এবং ‘সুপার জুট মিলস’ ও ‘সুপারেক্স লেদার’-এর জন্য পৃথকভাবে ১৫০ কোটি টাকা করে নতুন অর্থায়নের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ‘সুপারেক্স লেদার’-এর প্রায় ১৫ একর জমিতে সরাসরি ব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দৈনিক এক হাজার ব্যাগ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যাংকের সব পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে তাঁর অভিযোগ, সংকট সমাধানে অর্থায়নের পরিবর্তে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠান দুটি বিক্রি করে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানসহ দেশীয় শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পূর্বদিক/এসএ





