চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে খুকৃবিতে মতবিনিময়
প্রকাশিত হয়েছে : 13 October 2026, 8:06 pm

ছবি: পূর্বদিক
খুলনা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুকৃবি) চীনের ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস রুমে আয়োজিত এ সভায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. লু ফেং ও অধ্যাপক ড. ইয়ান ঝাং উপস্থিত ছিলেন। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খানও সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খুকৃবির কোয়ালিটি কন্ট্রোল অ্যান্ড সেফটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন খুলনা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সিস্টেমসের (কাউরেস) সহকারী পরিচালক ও সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। কাউরেসের ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সফর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্বাগত ব্যানার স্থাপন করা হয়। এ সময় অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সভায় অধ্যাপক ড. লু ফেং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে সীমান্তপারের অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পণ্য ও সেবা সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক রয়েছে। চীন বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধু। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কবিষয়ক ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অকৃত্রিম ও পরীক্ষিত বন্ধু। পারস্পরিক এই সম্পর্কের ধারা অব্যাহত রাখতে কার্যকর সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’
উপাচার্য আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণার সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ লক্ষ্যে তিনি ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলকে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থীর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অধ্যাপক ড. ওয়াং ইয়ান বাংলাদেশে এসে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বৈজ্ঞানিক সহযোগী হিসেবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে কাজ করার আগ্রহ জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইউনান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের এ সফর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, যৌথ গবেষণা, কৃষিপ্রযুক্তির উন্নয়ন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক-গবেষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।





