ইস্তফা ছাড়াই ক্ষমতাচ্যুত মমতা, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল
প্রকাশিত হয়েছে : ৭ মে ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোর মধ্যেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারালেন ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত দুই দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিবৃতিতে রাজ্যপাল বলেন, “ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারার (খ) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।”
এদিনই ছিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদের শেষ দিন। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাও পৃথক বিবৃতিতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকালের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। পাশাপাশি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথও উন্মুক্ত হলো।
গত এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরেও ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী রাজভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা থাকলেও সে পথে হাঁটেননি মমতা। বরং তিনি বলেন, “আমরা হারিনি। ভোট লুট করে হারানো হয়েছে। আমি রাজভবনে যাব না, ইস্তফা দেব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। এই দিনটি বাংলার ইতিহাসে কালো দিন হিসেবে লেখা থাকবে।”
নতুন বিজেপি সরকার আগামী ৯ মে শনিবার শপথ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে মাঝের দুই দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে এই সময় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রাজ্যপাল।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপি ও এনডিএর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতা পৌঁছানোর কথা রয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ।
পূর্বদিক/এসএ





