ঈদের শিক্ষা হোক ত্যাগ, মানবতা ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো: এম নাসের রহমান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ মে ২০২৬, ১২:২০ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আযহার আনন্দঘন পরিবেশেও বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের কথা স্মরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি বলেন, “ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবতার এক মহৎ শিক্ষা। আজকের এই আনন্দঘন মুহূর্তেও আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বের বহু মুসলমান যুদ্ধ, দারিদ্র্য, নির্যাতন ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”
বৃহস্পতিবার সকালে মৌলভীবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী হযরত সৈয়দ শাহ মুস্তফা (রহ.) ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রথম জামাতে অংশ নিয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অনুষ্ঠিত ঈদের এ জামাতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। নামাজে ইমামতি করেন প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শামসুল ইসলাম। মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
বক্তব্যে এম নাসের রহমান বলেন, “ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রতিদিন নিষ্পাপ শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা যারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি, তাদের উচিত নির্যাতিত মানুষের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করা।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলাম শান্তি, সাম্য ও মানবতার ধর্ম। বিভেদ, হিংসা ও প্রতিহিংসা নয়, মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলাই ইসলামের মূল শিক্ষা। ঈদের এই পবিত্র দিনে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
দেশের সার্বিক শান্তি ও উন্নয়ন কামনা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এই সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তরুণ সমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যুব সমাজকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। মাদক, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।”
বক্তব্য শেষে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে দেশকে দুর্যোগ, মহামারি ও অশান্তি থেকে মুক্ত রাখার পাশাপাশি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পূর্বদিক/এসএ





