সাভারে এসআই হত্যা: গ্রেপ্তার ৯, প্রধান আসামি রিমান্ডে
প্রকাশিত হয়েছে : 7 September 2026, 8:00 pm

ছবি: পূর্বদিক
সাভার প্রতিনিধি: সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হত্যার মূলহোতাসহ এজাহারনামীয় নয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সাভারের আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা জহিরুল ইসলামকে (৩২) ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. জাকির আল আহসান। পরে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, সাভারের আমিনবাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), সামসুলের ছেলে আপন (৩০), সামসুলের ছেলে জিহাদ (২০), মৃত নজরুলের ছেলে ইমরান (২৬), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. বজলু শেখের ছেলে রাকিব মিয়া (২৮), মৃত হালিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) এবং মো. জিন্নত আলীর ছেলে ওয়াসিম (৪০)।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। অন্য আটজনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় গ্যারেজ মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলের বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই আলতাফ হোসেনকে মারধর শুরু করে। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌড়ে তাঁর ছেলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন।
পরে হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজারে পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘটনাটি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মামলায় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
পূর্বদিক/এসএ





