ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
‘তরুণদের কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে’
প্রকাশিত হয়েছে : 7 September 2026, 8:03 pm

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এ এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এ এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সফর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানো হয়। অনুষ্ঠানস্থল ও রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের পথেও নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় প্রায় ৮৬ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বোর্ড থেকে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টরা।
দীর্ঘদিনের দাবির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় উচ্চশিক্ষা বিস্তারের কার্যক্রম শুরু হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য জেলায় যাওয়ার প্রবণতা কমার পাশাপাশি এ অঞ্চলে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
পূর্বদিক/এসএ





