চাঁদা না পেয়ে ‘মব’ তৈরি, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মে ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ

ছবি: পূর্বদিক
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক মাছ ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে পুলিশের উপস্থিতিতে ফাঁকা চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, চাঁদা না পেয়ে তাঁকে ঘিরে ‘মব’ তৈরি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, মাছ চাষ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার না করে উল্টো মব সৃষ্টিকারীদের পক্ষ নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার চাঁইসাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একই গ্রামের হাসান সরদার, মাসুদ রানা ও আশরাফুল ইসলাম তাঁর বাড়িতে যান। পরে তাঁকে সেখান থেকে তুলে গ্রামের অন্য প্রান্তের একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়।
সন্ধ্যার দিকে আসাদুল ইসলামকে প্রকাশ্যে আনা হলে সেখানে ১২০ থেকে ১৩০ জন লোক জড়ো হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ‘মব’-এ রূপ নেয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের চাপের মুখে পড়ে যায়।
মবকারীদের অভিযোগ, স্থানীয় কোলা বিলে মাছ চাষ প্রকল্পের কোষাধ্যক্ষ থাকাকালে আসাদুল ইসলাম টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সেই টাকা পরিশোধ না করলে তাঁকে ছাড়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে ব্যাংকের ফাঁকা চেক ও ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পুলিশ আসাদুল ইসলামের বাড়ি থেকে জনতা ব্যাংকের একটি চেক বই এনে দেয়। পরে তিনটি ফাঁকা চেক ও তিনটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর সেগুলো হাসান সরদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাত প্রায় নয়টার দিকে আসাদুল ইসলামকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
মাছ ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মবকারীরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় ব্যক্তিদের নিয়ে কোলা বিলে মাছ চাষ প্রকল্প পরিচালনা করতেন এবং প্রকল্পের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় নয় মাস আগে নতুন কমিটির কাছে হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান সরদার বলেন, “যা হয়েছে, পুলিশের সামনেই হয়েছে। পুলিশ উপস্থিত থেকেই সব হয়েছে।”
মবের সঙ্গে জড়িত সাত-আটজন ব্যক্তি দাবি করেন, আসাদুল ইসলাম মাছের খাদ্যের কমিশনের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে তাঁরা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ নেই বলেও স্বীকার করেন তাঁরা।
ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মান্নান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
স্থানীয় নরদাশ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি নিজেও অবাক হয়েছি। মব তৈরি করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পুলিশ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার না করে তাঁর বাড়ি থেকে চেক এনে ফাঁকা স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় মানুষ ক্ষুব্ধ।”
পূর্বদিক/এসএ





