আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ

ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। গত ২৭ এপ্রিল জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলার সাতটি উপজেলার জন্য ১০০ মেট্রিক টন জিআর (চাল) এবং ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জিআর (নগদ) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যাদুর্গতদের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ১১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুড়া ইউনিয়নের মিরপুর এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, দ্রুত সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছেন।
জনগণের জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
অন্যদিকে, বোরো মৌসুমে জেলার হাওড় ও নন-হাওড় এলাকায় ধান কর্তন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাওড় অঞ্চলে প্রায় ৮২ শতাংশ এবং নন-হাওড় এলাকায় ২২ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে আবাদকৃত জমির প্রায় ৪৮ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। হাওড় অঞ্চলে তুলনামূলক বেশি ধান কাটায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।
দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের মজুদে বর্তমানে ৩২১ দশমিক ৩২০ মেট্রিক টন চাল, ৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, ১৬৩ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা গৃহনির্মাণ সহায়তা রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত বরাদ্দ হিসেবে আরও ৫০০ মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ টাকা, ১ হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০ লাখ টাকা এবং ১০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে ১৮ হাজার ২০৫টি জিও ব্যাগ মজুদ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানিয়েছেন, সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বদিক/এসএ





