নোবিপ্রবিতে ফের লাগানোর পরও উধাও ছাত্রশক্তির ব্যানার
প্রকাশিত হয়েছে : 10 September 2026, 4:57 pm

ছবি: পূর্বদিক
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙানো ও খুলে ফেলা নিয়ে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার টাঙানো ব্যানার প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা খুলে ফেলেছেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের। পরে তারা নতুন করে ব্যানার টাঙালেও বৃহস্পতিবার সকালে সেগুলোও ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার টাঙান জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার নেতাকর্মীরা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি, ব্যাংক খাত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগ বাণিজ্য এবং শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় ব্যানারগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে।
ব্যানারগুলোতে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ১২টি, জ্বালানি খাত নিয়ে পাঁচটি, বিদ্যুৎ ও কৃষি খাত নিয়ে তিনটি, ব্যাংক দখল ও লুটপাট নিয়ে তিনটি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চাঁদাবাজি নিয়ে পাঁচটি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে চারটি এবং শিক্ষাঙ্গনের নৈরাজ্য নিয়ে তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিএনপি সরকারের গত ১৮০ দিনের ব্যর্থতা নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিষয়গুলো প্রদর্শন করছি।”
তিনি বলেন, “দেশের জ্বালানি সংকট, সার্বিক পরিস্থিতি, ব্যাংক খাতে লুটপাট এবং বিভিন্ন দপ্তরে দলীয়করণের প্রতিবাদে আমরা ব্যানার ও পোস্টার প্রদর্শন করেছি। পাশাপাশি এসব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, বর্তমান সরকার তাদের ভুলগুলো সংশোধন করবে।”
খুলে ফেলার পর ফের ব্যানার
ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের দাবি, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের টাঙানো ব্যানারগুলো খুলে ফেলেন। এ সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয়।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা চলে গেলে রাত ১টার দিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা নতুন ব্যানার এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আবারও টাঙান।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, রাতের বেলা নতুন করে টাঙানো ব্যানারগুলোও নেই। কে বা কারা ব্যানারগুলো সরিয়ে নিয়েছে বা ছিঁড়ে ফেলেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রশাসনের অস্বীকার, ছাত্রশক্তির অভিযোগ
এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গতকাল আমাদের ব্যানার খুলে দেওয়ার পর আমরা পুনরায় সেগুলো লাগাই। সকালে ব্যানার দেখতে না পেয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানায়, তারা ব্যানারগুলো খুলেনি।”
প্রশাসনের এমন বক্তব্যের পর ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অন্য কোনো পক্ষ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দলীয় বাহিনীর মাধ্যমে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার কাজ করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিএনপি সরকার যেমন বিরোধী দলকে দমনের মাধ্যমে তাদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চায়, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও তাদের পোষা বাহিনীর মাধ্যমে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে দমন করার উদ্দেশ্যে এমন ন্যক্কারজনক কাজ করেছে বলে আমরা মনে করছি।”
তবে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রশাসনের কোনো পক্ষ বা কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার সরিয়ে নিয়েছেন বলে ছাত্রশক্তির যে অভিযোগ, তারও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পূর্বদিক/এসএ





