শ্রীমঙ্গলে ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ নৃত্যকাব্যে মুগ্ধ দর্শক
প্রকাশিত হয়েছে : 10 October 2026, 11:28 pm

ছবি: পূর্বদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসব ও মহালয়ার আবহে নৃত্যের ছন্দ, সুর ও নান্দনিকতায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে নৃত্যকাব্য ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’। দেবীগাথা, শিল্প ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে সাজানো এই বিশেষ পরিবেশনা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সৃষ্টি করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল পৌর অডিটোরিয়ামে নৃত্যাঙ্গন-শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে ‘শারদ নৃত্য উৎসব ২০২৬’-এ মঞ্চস্থ হয় নৃত্যকাব্যটি। দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা ও শারদীয় উৎসবের আবহকে নৃত্যের ভাষায় তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস সোসাইটি নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট মো. জামাল উদ্দিন খন্দকার, সাংবাদিক এস কে দাশ সুমন এবং শ্রীমঙ্গল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মশিউর রহমান রিপন, ঢাকা শফিক ব্যালে ট্রুপ এর পরিচালক এস আই শফিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
উৎসবে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার নৃত্যসংগঠন ও ঢাকার স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পীরা অংশ নেন। তাঁদের নান্দনিক ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে উৎসবের মঞ্চ। নৃত্যের মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয় শিল্পের বৈচিত্র্যময় প্রকাশ।
‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ আয়োজনে দেবদেবীসহ বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন একদল শিল্পী। তাঁদের অভিনয়ে ফুটে উঠেছে মহাদেব, পার্বতী, মহাকালী, কৃষ্ণ, রাধা, দুর্গাসহ বিভিন্ন চরিত্র।
এতে মহাদেব চরিত্রে শচীন চন্দ্র দীপংকর, পার্বতী চরিত্রে শ্রেয়া সেন, মহাকালী চরিত্রে সঙ্গীতা দেব এবং কামাখ্যা চরিত্রে তমা দেব অভিনয় করেছেন। কৃষ্ণ চরিত্রে উজ্জয়িনী আদ্রিতা, রাধা চরিত্রে সপ্তর্ষি, রটন্তী কালী চরিত্রে প্রীতি, ভৈরবী চরিত্রে অন্বেষা দোলা, কমলা চরিত্রে অস্মিতা এবং ভুবনেশ্বরী চরিত্রে প্রথমা অভিনয় করেন।
এ ছাড়া দুর্গা চরিত্রে অপরাজিতা ঐশী, অসুর চরিত্রে অদ্রি ও দীপন, কামদেব চরিত্রে আয়ান ঘোষ, ব্রহ্মা চরিত্রে শান্ত এবং বিষ্ণু চরিত্রে কিশোর অভিনয় করেছেন। গঙ্গা চরিত্রে প্রজ্ঞা পারমিতা দাশগুপ্ত, রামকৃষ্ণ চরিত্রে সুধেন্দু ভট্টাচার্য, সারদা চরিত্রে মৌমিতা, মহামায়া চরিত্রে টুম্পা দেব, মহাকাল চরিত্রে সানি এবং কুমারী চরিত্রে স্তুতি অভিনয় করেন। অনুষ্ঠানটির সূত্রধর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাজু দেব। এর চিত্রনাট্যকার নবপত্রিক উল্লাস।
নৃত্যকাব্য ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’ প্রসঙ্গে নৃত্যাঙ্গন-শ্রীমঙ্গলের অধ্যক্ষ ও পরিচালক সাজু দেব বলেন, “শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি আর শিউলির সুবাসে যখন বাংলার আকাশ-বাতাস মুখর হয়ে ওঠে, তখনই মহালয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে ধ্বনিত হয় দেবীপক্ষের আগমনী বার্তা। মহালয়া কেবল একটি তিথি নয়, এটি বাঙালির আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।”
তিনি বলেন, “মহালয়াকে সামনে রেখেই নৃত্যাঙ্গন-শ্রীমঙ্গলের এবারের বিশেষ নিবেদন ‘নৃত্যবীথিকা: অহং ব্রহ্মাস্মি’। শ্রীমঙ্গলে মহালয়াকে কেন্দ্র করে কোনো নৃত্যপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভাবনা ও অভিব্যক্তিতে দেবীগাথানির্ভর নৃত্যনাট্য প্রযোজনার ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।”
সাজু দেব আরও বলেন, “নৃত্যকাব্যটির পটভূমি রচনা করেছে নবপত্রিক উল্লাস। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন উল্লাস, অস্মিতা, অধ্যাপক জলি পাল, অদ্রি বর্মন ও তিনি নিজে। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গুণী নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনাও উৎসবকে সমৃদ্ধ করেছে।”
দর্শকদের মনে পরিবেশনাটি কতটা ছাপ ফেলতে পেরেছে, তা নিয়ে নিশ্চিত না হলেও আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রাখেননি বলে জানান সাজু দেব। তিনি বলেন, নৃত্যাঙ্গন-শ্রীমঙ্গলের অধ্যক্ষ ও পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা, সবার শুভকামনা ও সহযোগিতা পেলে আগামী দিনেও এমন সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী প্রযোজনা মঞ্চস্থ করা সম্ভব হবে।
শারদীয় উৎসবের আবহে ‘অহং ব্রহ্মাস্মি’র এই পরিবেশনা শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নৃত্যচর্চার নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশাও জাগিয়েছে এ আয়োজন।
পূর্বদিক/এসএ





