ভুল আসামি শনাক্ত, আদালতে তলব এসআই ও ওসি
প্রকাশিত হয়েছে : 3 November 2026, 11:37 pm

ছবি: পূর্বদিক
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনে আসামির নাম ও পরিচয়ে গুরুতর অসংগতি পাওয়ার ঘটনায় আদালতে তলব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট এসআই ও থানার ওসিকে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গাইবান্ধার ষষ্ঠ আদালত (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত)-এর সেশন মামলা নং-৪৮৬/২০২১-এর বিচারিক আদেশে এ অসংগতির বিষয়টি উঠে এসেছে।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহার ও চার্জশিটে হাজতবাসরত আসামি হিসেবে শ্রী আশিক বাসফোর, পিতা শ্রী ভুট্টু বাসফোরের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় গ্রেপ্তারকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মো. দুলাল হোসেন ভিন্ন নাম ও পরিচয়ের এক ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত করেন। অন্যদিকে, দরখাস্তকারী আসামির প্রকৃত নাম মোহাম্মদ আশিক মিয়া, পিতা আলাল মিয়া। তিনি গাইবান্ধা সদর থানার স্থায়ী বাসিন্দা।
ফলে মামলার এজাহার, তদন্ত প্রতিবেদন এবং গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত নাম ও পরিচয়ের মধ্যে গুরুতর অসংগতি দেখা দেয়। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে পুলিশের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা, ভুল ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে শনাক্ত করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এ ধরনের অসংগতির পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
বিচারকের অনুমতিক্রমে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মারজিউল হাসানের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। পাশাপাশি এর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে পুলিশের প্রতিবেদনে থাকা অসংগতির কারণে বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতা এবং নিরপরাধ ব্যক্তির সাজা হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এ ঘটনায় আগামী ৩ নভেম্বর আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে পি.ডব্লিউ (P.W.) জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তা এসআই মো. দুলাল হোসেন এবং গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে প্রতিবেদনের অসংগতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি নাজমুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ক্যামেরা দেখে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য এবং আদালতে দাখিল করা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




