সিলেট-ঢাকা সড়ক ও রেল উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, দ্রুত কাজ শুরুর আশা: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ২ মে ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে নগরভবনে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি সিলেট-ঢাকা সড়ক ও রেলপথ উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সিলেট সফরের সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন—সিলেট থেকে লন্ডন যেতে যেখানে সাড়ে ৯ ঘণ্টা লাগে, সেখানে সড়কপথে সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ১১টি জটিলতা ছিল, যার কারণে কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। ইতোমধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগলেও এটি বাস্তবায়িত হলে মানুষের ভোগান্তি অনেক কমে আসবে।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি রেল যোগাযোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলে যানবাহন বাড়বে এবং যানজটও বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সিলেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশ নারী। তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের মাধ্যমে এগুলো সচল করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান বাড়ে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেও সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, সিলেটের বিদ্যমান আইটি পার্কটি দ্রুত চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নের কাজও চলছে।
নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির সময় বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হয়।
সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নদীতে প্লাস্টিক জমে পানি দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, হুইপ জিকে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার।
পূর্বদিক/এসএ





