সুন্দরবনে আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
প্রকাশিত হয়েছে : 10 October 2026, 11:37 pm

ছবি: পূর্বদিক
খুলনা প্রতিনিধি: সুন্দরবনে সক্রিয় আলিফ বাহিনীর পৃথক দুটি গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন রয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে এসআরবি-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদের কাছে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন।
নিস্তার আহমেদ জানান, আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি উদ্যোগে পুনর্বাসন করা হবে। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব বনদস্যু ও জলদস্যু অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাঁদেরও এসআরবির পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এসআরবি-৬ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আলিফ বাহিনীর পৃথক দুটি গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করলে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয় বলে জানায় এসআরবি-৬।
কোম্পানি কমান্ডার নিস্তার আহমেদ বলেন, আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীর নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে এর আগে সুন্দরবনের বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যু চক্রের তৎপরতা এবং আগে আত্মসমর্পণ করা কয়েকজন দস্যুর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও সামনে এসেছে।
সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এসআরবি-৬ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানান তিনি। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পূর্বদিক/এসএ





