বাংলাদেশে ‘ব্যাংক লুটের সিস্টেম’ রয়েছে—মে দিবসে এমপি নাসের রহমানের মন্তব্য
প্রকাশিত হয়েছে : ২ মে ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

এমপি নাসের রহমান
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও লুটপাটের প্রসঙ্গ টেনে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশে ব্যাংক লুট করার একটি সিস্টেম রয়েছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। পাকিস্তানে কিছুটা থাকলেও আমাদের দেশের মতো নয়।”
শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বিকেলে মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসের রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। প্রায় ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি মানুষ বসবাস করে। সীমিত সম্পদের মধ্যেই শ্রমিকসহ সব শ্রেণির মানুষের চাহিদা পূরণ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময় হয়েছে, তাই পর্যায়ক্রমে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
বীমা খাতের দুর্বলতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশ—যেমন ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায়—বীমা ছাড়া কোনো মোটরযান সড়কে চলতে পারে না। অথচ বাংলাদেশে এ নিয়ম কার্যত উপেক্ষিত। অনেকেই কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে যানবাহন কিনলেও বীমা করেন না, ফলে দুর্ঘটনা বা চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন।
তিনি আরও বলেন, ভারতে বীমা খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭ শতাংশ এবং নেপালে প্রায় ৩ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে তা প্রায় শূন্য দশমিক ১ শতাংশের কাছাকাছি। বীমা বাধ্যতামূলক হলেও সেটি যথাযথভাবে মানা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বীমার সুবিধা তুলে ধরে নাসের রহমান বলেন, কোনো গাড়ি চুরি হলে বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণ দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি উদ্ধারের দায়িত্বও নেয়। তবে দেশে কিছু অসাধু ব্যক্তি বীমা সুবিধা নিতে প্রতারণার আশ্রয় নেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ব্যাংক খাতের সমালোচনায় তিনি বলেন, দেশে বীমা কোম্পানির সংখ্যা ৮২টি এবং ব্যাংকের সংখ্যা ৫৬টি, যেখানে ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির দেশেও ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। তার প্রশ্ন, “এত ব্যাংক কেন? ব্যাংক লুটের সুযোগ তৈরির জন্য কি এই কাঠামো?”
তিনি আরও বলেন, ভারতে ব্যাংক লুটের কোনো ‘সিস্টেম’ নেই, কিন্তু বাংলাদেশে তা বিদ্যমান। অতীতে পাকিস্তানের সঙ্গে একই কাঠামোর অংশ হওয়ার কারণে কিছু নেতিবাচক চর্চা এখনো রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবহন খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা অত্যধিক, সাম্প্রতিক সময়ে টমটমও বেড়েছে। শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে শহরে পরিত্যক্ত জায়গা পাওয়া গেলে তা শ্রমিকদের অফিস হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
শহরে টমটমের ভাড়া ১০ টাকা বৃদ্ধির দাবিকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ইতিবাচকভাবে ভাবা উচিত।
মৌলভীবাজার জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রশিকের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, আলহাজ মো. আব্দুল মুকিত, মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু এবং পৌর বিএনপির সভাপতি মো. অলিউর রহমান।
এছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বদিক/এসএ





