চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু, প্রথম দিনেই সংগ্রহ ১১০টি
প্রকাশিত হয়েছে : 5 November 2026, 11:00 pm

ছবি: পূর্বদিক
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং-বি-৭৭) ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র বিতরণ ও সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই বিভিন্ন পদে মোট ১১০টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ নিয়ে চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক চা শ্রমিক ও সম্ভাব্য প্রার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের কার্যালয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলামসহ নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিন প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। প্রথম দিনে বাগান পঞ্চায়েত/প্রাথমিক কার্যকরী পরিষদের ১০৩টি, ভ্যালি (বালিশিরা) কার্যকরী পরিষদের ২টি, কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর ২টি এবং সম্পাদক মণ্ডলীর ৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই ১১০টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। ১১ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ, ১২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ ও শুনানি এবং ১৩ নভেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৪ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরদিন ১৫ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে গোপন ব্যালটে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হবে।
দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পর চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাগানে শুরু হয়েছে আলোচনা, প্রচার-প্রচারণা ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা তৎপরতা। দীর্ঘদিন পর ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন বলে শ্রমিকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা।





