দারিদ্র্য জয় করে জিপিএ-৫, উচ্চশিক্ষার পথে রেশমির পাশে ইউএনও
প্রকাশিত হয়েছে : 18 September 2026, 12:58 pm

ছবি: পূর্বদিক
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: নিত্যদিনের অভাব-অনটন আর চরম দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই পড়াশোনা চালিয়ে গেছে রেশমি আক্তার সুমাইয়া। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেনি তার স্বপ্ন। অদম্য চেষ্টা ও মেধার জোরে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
তবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের পরও উচ্চশিক্ষার পথে নতুন করে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অর্থসংকট। ভালো কলেজে ভর্তি এবং পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে রেশমি ও তার পরিবার।
রেশমির এই সংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদারের। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রেশমির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেন।
এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রেশমি আক্তার সুমাইয়ার হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার। ইউএনওর এই সহযোগিতায় কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার পথ কিছুটা সহজ হবে বলে আশা করছে রেশমি ও তার পরিবার।
অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা রেশমির কাছে জিপিএ-৫ অর্জন শুধু একটি ফলাফল নয়, এটি তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, সংগ্রাম ও স্বপ্নের প্রতিফলন। অর্থের অভাবে যেখানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেমে যায়, সেখানে রেশমির সাফল্য প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
রেশমির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। পরিবারের পক্ষ থেকেও ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রেশমির মতো মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সংকট যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে দারিদ্র্যের কারণে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা আরও অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে।
রেশমির হাতে দেওয়া এই সহযোগিতা হয়তো তার জীবনের সব সংকট দূর করবে না। তবে স্বপ্ন পূরণের পথে এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক সহায়তা। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে যে মেধা জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারে, সেই মেধা যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, এখন সেটিই রেশমি ও তার পরিবারের প্রত্যাশা।
পূর্বদিক/এসএ





