লক্ষ্মীছড়িতে রাবার বাগানের বিরুদ্ধে কৃষকের জমি দখলের অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : 29 September 2026, 5:57 pm

ছবি: পূর্বদিক
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে গাজী রাবার প্লান্টেশনের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের শত শত একর রেকর্ডীয় জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। জমি কেনার অজুহাতে এসব জমি দখলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, নিজেদের জমিতে চাষাবাদ কিংবা প্রবেশ করতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। প্রতিবাদ করলে মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়।
জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবে ‘ভূমি রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির আহ্বায়ক ও ভুক্তভোগী কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ২১৮ নম্বর জুর্গাছড়ি ও ২২০ নম্বর ময়ূরখীল মৌজায় স্থানীয় পুনর্বাসিত পাড়ার কৃষকদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। কৃষকদের অভিযোগ, গাজী রাবার প্লান্টেশনের নামে জমি ক্রয়ের অজুহাতে তাঁদের রেকর্ডীয় জমির একটি বড় অংশ দখলে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এসব জমি তাঁদের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের লোকজন ওই জমিতে রাবারগাছ লাগানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জমি দখলের অভিযোগ জানিয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তাঁরা কার্যকর প্রতিকার পাননি। পরে সরকার পরিবর্তনের পর বিচার পাওয়ার আশায় কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগের সঙ্গে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নামও উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জমি দখলের অভিযোগের বিরুদ্ধে তাঁরা কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী রাবার প্লান্টেশনের পরিচালক কামরুজ্জামান, ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান, আব্দুর রউফ ও মো. জাহাঙ্গীর আলমের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধেও জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ করা হয়।
এ সময় আটজন কৃষকের প্রায় ৩২ দশমিক ৫ একর জমির বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় থাকা কৃষকেরা হলেন মো. আবুল হোসেন মুন্সি, আব্দুল গফুর, মহরম শেখ, আ. রহমান, মো. জামাল উদ্দিন, আফাজ উদ্দিন, হযরত আলী ও মো. রহমত আলী।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা তাঁদের জমির রেকর্ড, খতিয়ান, দখল ও মালিকানার কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জমি দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তাঁরা।
পূর্বদিক/এসএ





