চা-শ্রমিকের পেটে ক্ষুধা থাকলে মজুরি বৃদ্ধির লড়াই চলবে
প্রকাশিত হয়েছে : 13 September 2026, 6:43 pm

ছবি: পূর্বদিক
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চা-শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক গীতা রানী কানুর মুক্তি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে মৌলভীবাজারে নাগরিক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘চা-শ্রমিকের পেটে যতক্ষণ ক্ষুধা আছে, ততক্ষণ মজুরি বৃদ্ধির লড়াই চলবে।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়ার সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সভাপতি জ্যোতিষ মোহান্তের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি সালেহ সোহেল, বাসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সদস্য আবুল হাসান, চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মৌলভীবাজার জেলা কমিটির জহর লাল দত্ত, যুব ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি আবু রেজা সিদ্দিকী ইমন, বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজ পাশি, চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণদাস অলমিক, চা-শ্রমিক সংস্কার কমিটির আহ্বায়ক বিষু প্রসাদ গোয়ালা ও সদস্য আকাশ দোষাদ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করেন চা-শ্রমিকরা। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের শুধু চালের পেছনেই যেখানে দৈনিক ১০০ টাকার বেশি খরচ হয়, সেখানে মাত্র ৯ টাকা বৃদ্ধি করে চা-শ্রমিকদের মজুরি ১৯৬ টাকা নির্ধারণ করা চরম অমানবিক। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে এই স্বল্প মজুরি কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ মজুরিতে চা-শ্রমিকদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তাঁরা বলেন, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি মানবিক ও যৌক্তিক। তাই অবিলম্বে সরকারকে চা-শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম চা উৎপাদনকারী দেশ হয়েও বাংলাদেশের চা-শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম মজুরি পান। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের আসাম সরকার চা-শ্রমিকদের মজুরি ৩০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। এতে আসামের ব্রহ্মপুত্র ভ্যালিতে নতুন মজুরি নির্ধারিত হয় ৩৫৮ টাকা (২৮০ রুপি) এবং বরাক উপত্যকায় ৩৩০ টাকা (২৫৮ রুপি)।
এ ছাড়া ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে কেরালায় চা-শ্রমিকরা সর্বোচ্চ ৪২১ রুপি, তামিলনাড়ুতে ৪০৬ রুপি এবং কর্ণাটকে ৩৭৬ রুপি দৈনিক মজুরি পান। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রায় ৫৫০ টাকা এবং কেনিয়ায় প্রায় ৪৮৩ টাকা বলেও সমাবেশে উল্লেখ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সিপিবি মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া বলেন, চা-শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক গীতা রানী কানুকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে। তাঁকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চা-শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি সরকারকে মেনে নিতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে আরও তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পূর্বদিক/এসএ





