ম্যানচেস্টারে তা’লীম-তারবিয়াত ও দারসে হাদীস মাহফিল অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত হয়েছে : 15 October 2026, 9:54 am

ছবি: পূর্বদিক
ম্যানচেস্টার (যুক্তরাজ্য) প্রতিনিধি: ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে তা’লীম-তারবিয়াত ও দারসে হাদীস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (১১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সহীহ বুখারী শরীফের দরস প্রদান করেন উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুরশিদে বরহক শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।
মাহফিলে লন্ডন, মিডল্যান্ডস, নর্থ ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মাহফিলটি এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল হযরত মাওলানা মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, লাতিফী হ্যান্ডস বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থওয়েস্টের প্রিন্সিপাল মাওলানা সালমান আহমদ চৌধুরী এবং লাতিফী হ্যান্ডস বাংলাদেশের সিনিয়র অপারেশন ম্যানেজার মাওলানা লুকমান আহমদ চৌধুরী সাদী। এ ছাড়া বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব, বিশিষ্ট আলেম-উলামা ও কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর আলোচনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের আলোকে মানবসেবা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিবার-পরিজনের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিধবা, মিসকিন, অসহায় ও অনাথ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। এ ধরনের মানবসেবামূলক কাজের সওয়াব আল্লাহর পথে জিহাদে অংশগ্রহণকারী কিংবা রাতে ইবাদত ও দিনে রোজা পালনকারী ব্যক্তির সওয়াবের সমতুল্য বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। নিজের পরিবার-পরিজনের দেখাশোনা করা এবং স্ত্রীর মুখে খাবার তুলে দেওয়াও সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্বের বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মা-বাবার খেদমতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে যাঁরা মা-বাবাকে দেশে রেখে প্রবাসে বসবাস করছেন, তাঁরা দেশে গেলে মা-বাবার কবর জিয়ারত ও তাঁদের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা ও উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায়, অন্যের ভালো কিছু দেখে আনন্দিত হওয়া, মানুষের দুঃখ-কষ্টে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফার পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তাসাউফ ও আত্মিক পরিশুদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) আমাদের তরিকার ইমাম। তাঁর মাধ্যমে তাসাউফ তথা আত্মশুদ্ধি ও নফসের পরিশুদ্ধির মহান চর্চা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরিফ বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের শিক্ষা ও চর্চা প্রসারে তাঁর পীর ও মুর্শিদ হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (রহ.) সারা জীবন অসামান্য খেদমত করে গেছেন। কোরআন তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান মুসলিম উম্মাহর জন্য মূল্যবান উত্তরাধিকার।
আউলিয়ায়ে কেরামের রেখে যাওয়া দ্বীনি খেদমতের ধারাবাহিকতায় শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের বিভিন্ন দ্বীনি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার খেদমত আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হওয়ার জন্য তিনি দোয়া করেন। পাশাপাশি ইন্তেকাল করা সব মুসলমানের মাগফিরাত কামনা করেন।
মাহফিলে আলোচনা করেন আনজুমানে আল ইসলাহ ইউকের গ্রেটার ম্যানচেস্টার ডিভিশনের সভাপতি এবং শাহজালাল জামে মসজিদ, কিথলির ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হাফিজ হেলাল উদ্দিন। মসজিদের ইমাম হাফিজ আবদুল হামিদ শাহানের পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন মসজিদের ভাইস চেয়ারম্যান গনি আহমদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ওয়ালসলের শামসুদ্দোহা শিল্পীগোষ্ঠী এবং ওল্ডহামের দারুল হাদিস লতিফিয়া নর্থওয়েস্টের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর নাশিদ পরিবেশন করেন। ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তিলাওয়াত ও নাশিদ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
মাহফিলটি সঞ্চালনা করেন শাহজালাল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতিব মাওলানা খায়রুল হুদা খান।
পরিশেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ এবং ইন্তেকাল করা মুসলমানদের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে।





