পাঠদানের সময় টেবিলে ঘুম, কমলগঞ্জের স্কুলে শিক্ষিকাকে ঘিরে ক্ষোভ
প্রকাশিত হয়েছে : 23 September 2026, 4:08 pm

ছবি: পূর্বদিক
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলের ওপর মাথা রেখে এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন শিক্ষিকার এভাবে ঘুমিয়ে পড়া দায়িত্বে অবহেলার শামিল।
গত রোববার উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বনগাঁও-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নবনিতা সিনহা ক্লাস চলাকালে একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। তাঁরা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে ওই শিক্ষিকার ঘুম ভাঙে। পরে তিনি শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।’
এদিকে ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র কুমার সিংহ বিদ্যালয়ে ছিলেন না বলে জানা গেছে। তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল দিতে আদমপুর বাজারে এসেছি।’
তবে বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেছেন। প্রধান শিক্ষক ও ওই শিক্ষকের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা নবনিতা সিনহা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ‘শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় আমরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাই। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
অভিভাবকদের মতে, কোনো শিক্ষক অসুস্থ বোধ করলে প্রধান শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পাঠদান চলাকালে শ্রেণিকক্ষে ঘুমিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, ‘ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, ‘স্কুলে ক্লাস চলাকালে টেবিলে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ওই শিক্ষিকাকে ডেকে এনে খতিয়ে দেখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মান ভালো রাখতে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিক্ষকদের উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।’
পূর্বদিক/এসএ






