গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে উদ্বেগ
ছাতকে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ, আহত ৪০
প্রকাশিত হয়েছে : 24 September 2026, 11:08 pm

ছবি: পূর্বদিক
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের তিন গণমাধ্যমকর্মী হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। দুপুরে অনুষ্ঠান চলাকালে কলেজ গেট এলাকায় ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ ও কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা পরস্পরের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাতক-সিলেট ও ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের জাকির হোসেন লাহিনসহ তিনজন এবং ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ, আব্দুল ওয়াদুদ ও লায়েক আহমদ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষের সময় ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে গিয়ে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মোশাহিদ আলী, ক্রীড়া সম্পাদক এআর সায়েম ও সদস্য লোকমান হোসেন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে তাদের হেনস্তা করেন।
সংঘর্ষ চলাকালে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মাহবুব আহমদ বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ছাত্রদল মিছিলের প্রস্তুতি নিলে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা বাধা দেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করা হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছাত্রদলের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. জুনায়েদ আহমদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর প্রতিবাদ করলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষের উদ্দেশ্যে আগে থেকেই রড, ছুরি ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি বলেন, ছাত্রশিবিরের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকলে তদন্তে তা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বদিক/এসএ




