নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে স-মিল, নেই কোনো অনুমোদন
প্রকাশিত হয়েছে : 15 September 2026, 11:55 pm

ছবি: পূর্বদিক
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রশাসনের অনুমোদন নেই, নেই বৈধ লাইসেন্স। এরই মধ্যে মোবাইল কোর্টে জরিমানা ও মিল বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা বাজারে প্রকাশ্যে চলছে আব্দুস সালামের করাতকল বা স-মিল।
অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এই বাজারটি ভারতের মেঘালয় সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আনা বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ এই স-মিলে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, চোরাকারবারিদের সঙ্গে স-মিল মালিকের যোগসাজশ থাকায় সীমান্ত দিয়ে আনা কাঠ এখানে মজুত ও চেরাই করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজারসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়াই স-মিলটি পরিচালনা করে আসছেন মঙ্গলকাটা গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে আব্দুস সালাম। সেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ চেরাই করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সূত্র জানায়, গত ২৪ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদিত্য পালের নেতৃত্বে ওই স-মিলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বৈধ লাইসেন্স ছাড়া করাতকল পরিচালনার অপরাধে স-মিল মালিক আব্দুস সালামকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত স-মিল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের পর মাত্র এক সপ্তাহ নির্দেশনা মেনে মিল বন্ধ রাখেন আব্দুস সালাম। এরপর গত আগস্ট মাস থেকে আবারও কোনো অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই পুরোদমে কাঠ চেরাইয়ের কাজ শুরু করেন তিনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স-মিলের চারপাশে বিপুল পরিমাণ কাঠ মজুত রয়েছে। কয়েকজন শ্রমিক কাঠ চেরাইয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স-মিল মালিক আব্দুস সালাম দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। একই সঙ্গে শ্রমিকরাও কাঠ চেরাইয়ের কাজ বন্ধ করে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা মেহগনি, শিলকড়ই, আকাশমণিসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ এই স-মিলে এনে রাখা হয়। তাদের দাবি, মিলের আশপাশে এখনো বিপুল পরিমাণ কাঠ মজুত রয়েছে।
তবে এসব কাঠের উৎস এবং চোরাকারবারিদের সঙ্গে স-মিল মালিকের কথিত যোগসাজশের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সড়কের পাশে স-মিলটি স্থাপন করায় কাঠ চেরাইয়ের শব্দ ও ধুলাবালিতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিল চালু রাখার বিষয়ে মোবাইল ফোনে আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল কোর্টের পরও স-মিল চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। সরাসরি এসে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা আপনারা রিপোর্ট করেন আর বলেন মালিককে পাওয়া যায়নি। যা পারেন লিখেন আমার বিরুদ্ধে।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা আগামী তিন-চার দিনের মধ্যেই স-মিলটির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে করাতকলটি সিজ করার ব্যবস্থা নেব।”
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও কীভাবে একটি অনুমোদনহীন স-মিল পুনরায় চালু হলো এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কাঠ চেরাইয়ের কাজ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পূর্বদিক/এসএ





