‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’: নৃত্যনাট্যে দেবীশক্তির মহিমা ও অসুরবধের কাহিনি
প্রকাশিত হয়েছে : 13 October 2026, 7:36 pm

ছবি: পূর্বদিক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেবীমাহাত্ম্য ও শ্রীশ্রীচণ্ডীর ভাবধারায় তিন চরিত্রে অসুরবধের পৌরাণিক আখ্যান, দেবীশক্তির মহিমা এবং সৃষ্টির অন্তর্নিহিত শক্তির প্রকাশ তুলে ধরা হয়েছে ‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’ শীর্ষক নৃত্যনাট্যে। এই উপস্থাপনার মূল বার্তা, দেবীশক্তি বিরাজমান প্রতিটি প্রাণে, প্রতিটি কণায়, প্রতিটি হৃদয়ের স্পন্দনে।
সোমবার রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মহালয়া উপলক্ষে ‘দেবী আবাহন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেবাঙ্গন ছাত্র পরিষদ। আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে হাওয়াইয়ান গিটারের সুরের মূর্ছনায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আগমনী ডান্স প্রোডাকশন হাউসের বিশেষ নৃত্যপ্রযোজনা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মঞ্চে পরিবেশনা শুরু করেন নৃত্যশিল্পীরা। এই বৃহৎ প্রযোজনায় অংশ নেন ৭৫ জনেরও বেশি শিল্পী। তাঁদের পাশাপাশি নেপথ্যে কাজ করেন একাধিক কলাকুশলী। শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমে বাস্তবায়িত হয় এই আয়োজন।
তাছাড়া, মধ্যরাতে সংগীতের মোহনীয় সুরে মঞ্চ মাতিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় ‘পাতার বাঁশরি’ গানের শিল্পী ঈশান মজুমদার। একের পর এক জনপ্রিয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তিনি মুগ্ধ করেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের।
‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’ প্রযোজনার প্রধান কোরিওগ্রাফার প্রাপ্ত প্রীতম বলেন, “চণ্ডী ও কালিকাপুরাণের বিষয়বস্তুকে কীভাবে মঞ্চে উপস্থাপন করা যায় এবং মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা যায়, সেটিই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য। দেবীশক্তির অনন্য মহিমা ও শক্তির স্বরূপকে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে এর গভীর তাৎপর্য পৌঁছে দিতে চেয়েছি।”
অনুষ্ঠানে আসা সুচিত্রা দেব বলেন, “মঞ্চায়িত ‘সর্বভূতেষু সংস্থিতা’ নৃত্যনাট্যটি সত্যিই অসাধারণ একটি পরিবেশনা। নৃত্য, সংগীত ও অভিনয়ের মাধ্যমে দেবীশক্তির মহিমা যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেবীর শক্তি, সৃষ্টির রহস্য এবং নারীর মহিমা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সবকিছু মিলিয়ে দেবাঙ্গন ছাত্র পরিষদের চমৎকার আয়োজন ছিল।”
বাবলু রায় বলেন, “নৃত্যনাট্যটি দেখে মনে হয়েছে, দেবীশক্তি শুধু মন্দিরের প্রতিমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সৃষ্টির প্রতিটি প্রাণের মধ্যেই তাঁর অবস্থান। শিল্পীদের পরিবেশনা, পোশাক, সংগীত ও মঞ্চসজ্জা সব মিলিয়ে এটি ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।”
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু আশ্রম ও মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বন্ধু প্রীতম ব্রহ্মচারী, শ্রীমঙ্গল চন্দ্রনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহর তরফদার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক মো. সরফরাজ আহমেদ সরফু, দেবাঙ্গন ছাত্র পরিষদের উপদেষ্টা এস কে দাশ সুমন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা, সাতগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন শীল, সুপর্ণা দেবনাথ, অঙ্কিতা আচার্য্য ও ডা. পুস্পিতা খাস্তগীরসহ অনেকে। এ সময় সংগঠনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।





